নেপাল ভ্রমনেচ্ছুদের জন্য কিছু তথ্য

বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ নেপাল । ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্রের কারনে নেপাল একটি ব্যতিক্রম দেশ । যেখানে জীবনের ছন্দ বিনম্র ধিরস্থির এবং জীবনধারা ঐতিহ্যবাহী ও সাবলীল । এখানে প্রকৃতি সবচেয়ে চমৎকার । ভ্রমানের জন্য নেপালের উঁচু গগনচুম্বি পর্বত ও প্রশস্ত উপত্যাকাগুলো খুবই আদর্শ স্থান । নেপালের রূপ বৈচিত্র্য কেবল মনোলোভাই নয় অনন্যও বটে । নেপালের পর্বত যেন আকাশ ছুঁয়েছে । তাই এখানকার অসংখ্য পর্বত প্রকৃতি প্রেমিদের ব্যাপকভাবে হাতছানি দেয় অবকাস যাপনের জন্য । এক কথায় বলা যায় গগনচুম্বি পর্বত ও রূপ বৈচিত্র্যে অনন্য নেপাল । একারনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ভ্রমন পিপাসুদের প্রিয় গন্তব্যের দেশ হচ্ছে নেপাল ।

আকাশ পথে নেপাল যেতে হলে বিমান ছাড়ার দুই ঘন্টা আগে বিমান বন্দরে পৌছাতে হবে । বিমান ছাড়ার ১৫ মিনিট পরই দেখবেন দুরেরে এক প্রান্তে মেঘে ঢাকা ধূসর পাহাড় । তুলোর মতো থোকা থোকা মেঘের কনা ভাসতে থাকে আকাশ পানে ‍। চোখের দৃষ্টি এড়াতে পারবে না এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের । ভ্রমনের সাথী হবে বরফে ঢাকা হিমালয়ের উঁচু পাহাড় গুলো । স্বপ্নের মাঝে বিলিন হয়ে হাড়িয়ে যাবেন অন্য জগতে । স্বপ্ন ভাংবে যখন বিমান নিচে নামতে শুরু করবে নেপালের ত্রিভূন ইন্টারন্যাশনালে এয়ারপোর্টের রানওয়েতে ।এছাড়া সড়ক পথে ঢাকার গাবতলী থেকে শ্যামলী, সেহাগ, হানিফ অথবা এস আর পরিবহনে বুড়িমাড়ি যাবেন ।

Nepal-Tour

ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ভারতের চোংরাবান্দা বর্ডার । এরপর বাস বা ট্যাক্সিযোগে শিলিগুড়ি । শিলিগুড়ি থেকে বাস যায় নেপালে । সময় লাগবে ১৬ ঘন্টা । অন্যদিকে সড়ক পথে ঢাকার কমলাপুরস্থ বিআরটিসি বাস টার্মিনাল থেকে বাসে যশোর-বেনাপোল-হরিদাসপুর হয়ে কলিকাতার সল্টলেকস্থ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সরাসরি কলকাতা যাওয়া যায় । এখান থেকে সরাসরি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে কাঠমুন্ডু যাওয়া যায় । কাঠমুন্ডু নেপালের রাজধানী । এই শহরের উচ্চতা ৪৬০০ ফুট । দালালদের খপ্পর, গাড়ির টিকিট, থাকা-খাওয়া ঝামেলা এড়াতে চাইলে বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানির প্যাকেজের মাধ্যমে নেপাল যাওয়া যায় । গনমাধ্যম : নেপাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকার নাম কান্তিপুর ন্যাশনাল ডেইলি, নেপাল সমাচার পত্র, হিমালয়ান টাইমস কাঠমুন্ডু, পোস্ট রাজধানী, ডেইলি বুধবার, সাপ্তাহিক জন আস্থা, সাপ্তাহিক ।

নেপাল হিমালয় অধ্যুষিত একটি দক্ষিন এশিয়া দেশ যার সাথে উত্তরে চীন এবং দক্ষিন, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারতের শীমান্ত রয়েছে । নেপাল দক্ষিন এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা গঠন (সার্ক) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য । এর শতকরা ৮০ ভাগ জনগনই হিন্দু ধর্মের অনুসারি । বেশ ছোট আয়তনের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও নেপালের ভূমিরূপ অত্যন্ত বিচিত্র । আর্দ্র আবহাওয়া বিশিষ্ঠ অঞ্চল তারই থেকে শুরু করে সুবিশাল হিমালয়; সর্বত্রই এই বৈচিত্র্যের পরিচয় পাওয়া যায় । নেপালে এবং চীনের সীমান্ত জুড়ে যে অঞ্চল যেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১০টি পর্বর্তের ৮ টিই অবস্থিত । এখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত ।

যারা নেপাল যেতে চান, তাদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সামান্য কিছু তথ্য দিলাম । আমি এয়ারে গিয়েছিলাম । একজনের ভাড়া লাগে ১৫০০০/- টাকা আপনি বাংলাদেশ থেকে নেপালের ভিসা নিতে পারেন নেপাল দুতাবাস থেকে (ফ্রী) । আবার নেপালে গিয়েও এয়ারপোর্ট থেকে ভিসা নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ১০০ নেপালী রুপি অতিরিক্ত দিতে হবে ।

এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে করে কাঠমুন্ডুর থামেল নামক এলাকাতে যাবেন । কারন সেখানেই বেশিরভাগ হোটেল অবস্থিত । ভাড়া নিবে ২৫০/৩০০ রুপি । ভাল কথা, বাংলাদেশ ও নেপালের মুদ্রার মূল্যায়ন প্রায় একই । মোটামুটি মানের হোটেলে রুম ভাড়া নিবে ২৫০ থেকে ৫০০ রুপির মত । নেপালে ট্যাক্সি ভাড়া থেকে শুরু করে খাবার-দাবার ও অন্যান্য সবকিছুর দাম আমাদের থেকে কিছুটা বেশী, সম্ভবত টুরিষ্ট প্রধান শহর  বলে ।কাঠমুন্ডু শহরের ভিতরে যে সব জায়গা দেখার মত যেগুলো হল : কাঠমুন্ডু দরবার স্কয়ার, পাঠান দরবার স্কয়ার, বুদ্ধুনাথ স্তুপা, পশুপতিনাথ মন্দির, মাংকি মন্দির, রয়েল প্যালেস ইত্যাদি । একটা ট্যাক্সি নিয়ে আপনি একদিনেই এসব ঘুরে দেখতে পারেন ।এছাড়া বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি ঘুরে আসতে পারেন তবে পরের দিন ।

মাউন্ট এভারেস্ট দেখতে চাইলে আগের দিন ট্যাক্সি ঠিক করে রাখবেন যাতে পরের দিন ভোর ৪.০০/৪.৩০ টার দিকে রওনা হতে পারেন নাগরকোটের উদ্দেশ্যে । ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে মাউন্ট এভারেস্ট দেখার আনন্দ ভাষাই প্রকাশ করা সম্ভম না, শুধু অনুভব করা যায় ।

Mount-Everest

ওখান থেকে ফিরে আসার পথে আরেকটি শহর পরে যার বাড়ি ঘর সব হলুদ ইট দিয়ে তৈরী । ওটাও ঘুরে দেখে আসতে পারেন । ট্যাক্সির ভাড়া নিতে পারে ১৫০০/১৬০০ রুপির মত । যারা বেশী সাহসী তারা পেনে করে চলে যেতে পারেন এভারেস্ট-এ । এর জন্য শহরেই বিভিন্ন গাইড ফার্ম আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা নিয়ে যায় । পোখারা  যেতে হলে খুব সকালে বাসে করে যেতে হবে । ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৫০০/৬০০ রুপি । এখানে বেড়ানোর জন্য কমপক্ষে ২ দিন সময়  হাতে রাখতে হবে । ফিরে আসার সময় নেপাল এয়ারপোর্টে এয়ারপোর্ট ট্যাক্স বাবদ জনপ্রতি ৭০০ রুপি করে রেখে দেয় কাস্টমস কতৃপক্ষ । সবমিলিয়ে ৬/৭ দিনের নেপাল ভ্রমনে আপনার (কাপল) ব্যয় হতে পারে ২৫০০০/- থেকে ৩০০০০/- রুপি (বিমান ভাড়া বাদে)

The following two tabs change content below.
Avatar

বিডি টুর গাইড

আমি বিডি টুর গাইড টির এডমিন যে ব্লগটির মাধ্যমে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের দর্শনীয় ও বিখ্যাত জায়গা গুলি কিভাবে ঘুরেবেন তাআমি প্রকাশ করে থাকি । আমি সুন্দর সুন্দর জায়গা গুলি ঘুরে বেড়াতে খুব পছন্দ করি এবং ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ও অনুভুতি এখানে এই ব্লগের মাধ্যম পাবলিশ/ প্রকাশ করার মাধ্যমে আনন্দের পরিপুর্ণতা পায়। আপনারাও আপনাদের বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন।
Default image
বিডি টুর গাইড
আমি বিডি টুর গাইড টির এডমিন যে ব্লগটির মাধ্যমে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের দর্শনীয় ও বিখ্যাত জায়গা গুলি কিভাবে ঘুরেবেন তাআমি প্রকাশ করে থাকি । আমি সুন্দর সুন্দর জায়গা গুলি ঘুরে বেড়াতে খুব পছন্দ করি এবং ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ও অনুভুতি এখানে এই ব্লগের মাধ্যম পাবলিশ/ প্রকাশ করার মাধ্যমে আনন্দের পরিপুর্ণতা পায়। আপনারাও আপনাদের বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন।
Articles: 37
error: Content is protected !!